Tuesday, 22 September 2015

Epitaph / এপিটাফ


- তুমি সুখ উপলব্ধি করেছ?

- করেছি তো।

- সত্যি বলছ?

- সত্যিই!

- তাহলে বলো, কেমন সে অনুভূতি? কেমন, সুখ?


- সে বড় অদ্ভুত। বলে বোঝাব কি করে?

- না, তবু বলো আমায়।

- বেশ। ওই যে বললাম, অদ্ভুত? তাইই। কোন গন্ধ- বর্ণ - স্বাদ হয়না সুখের। না বিন্দুর মতো স্থির, না নদীর মতো বহমান। আবার, না ঝর্নার মতো চঞ্চল! না এঁদো পুকুরের জলের মতো বদ্ধ। বরং, বলতে পারো, দিঘীর মতো! গভীর, ভিতরে গিয়ে বাজে। তল পাওয়া যায়না!

- আরও বলো আমায়, আরও বলো!

- জানিনা... সুখ পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু তবু বড় অস্থির লাগে, জানো? সারাক্ষন মনে হয়, এতো সুখ - কিভাবে তাকে ধরে রাখি? আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে কিভাবে ধারণ করে রাখি, কিভাবে আগলে রাখি একে? ভেবে পাই না!

- হারানোর ভয়?

- হয়ত! হয়ত কেন, বোধ হয় তাইই। আর সেই জন্যেই দুহাতে প্রাণপণে আঁকড়ে ধরে রাখতে ইচ্ছে করে। তোমাকে সুখ দিয়ে বাঁধতে ইচ্ছে করে। কষ্ট হয়!

- কষ্ট! কেন?

- জানিনা। যে অনুভূতিতে গলা অবধি ডুবে আছি আমি, তাই ভাগ দিতে ইচ্ছে হয় তোমাকে। আটকাতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু পারি কই?

- এর মধ্যে আবার আমাকে কেন?

- হ্যাঁ তোমাকে। তোমাকেই তো! তোমাকে ছাড়া আর কাকে? মনে হয় - তুমি যদি একবার নিজের চোখে দেখতে, অনুভব করতে পারতে কি সুন্দর, কি পরিপূর্ণ এই সুখ, জানিনা... হয়ত সেদিন তোমারও আমাকে ভালবাসতে ইচ্ছে হতো!

- কিন্তু আমি তো ভালবাসা বুঝিনা। বুঝিনি, কোনোদিন।

- জানি। আর তাই এতো সুখের মধ্যেও কাঁটা বেঁধে, তোমার জন্য কষ্ট হয় সারাক্ষণ। তোমাকে ভুলতে পারিনা।

- তাহলে উপায়?

- উপায়? উপায় নেই কোন। কিন্তু, অবসান আছে!

- অবসান?

- হ্যাঁ, অবসান।

- কিরকম?

- মরতে চাই তোমার হাতে। এক্ষুনি।

- এক্ষুনিই? কেন, এতো তাড়া কিসের?

- যদি লোভী হয়ে পড়ি? যদি সুখ কমে যায়? যদি চোখ খুলে যায় একদিন, হঠাৎ করে? সে বড়ো জ্বালা! না না, দেরী করা যাবেনা। তার আগেই মরতে চাই। এক্ষুনিই!

- বেশ!

- শুধু, তার আগে একটা মাত্র কাজ বাকি।

- কি কাজ?

- এপিটাফ। তুমি বলেছিলে, আমরা দুজন একে অপরের এপিটাফ লিখে যাব। মনে পড়ে?

- হ্যাঁ। বেশ, তোমার এপিটাফ লিখে দি তবে?

- কি লিখবে?

- উমম... লিখব - "বোকা মেয়েটা ভালবাসাকেই শ্রেষ্ঠ বলে মনে করত। তাই ঘৃণা তাকে আজ মৃত্যুদণ্ড দিলো।"

- ঠিকই তো! বেশ, এবার আমি বলি, তোমার জন্য?

- বলো?

- আমি লিখবো - "ও বড্ড একা। আমি চলে গেলে তোমরা ওকে একটু ভালবেসো।"